ওজনে জ্বালানি তেল কম দেওয়ার অভিযোগ এনে এক লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের পর প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকার রশিদ। অভিযানকারী ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তা এবং তার নিজস্ব দালাল ভাগ করে নিয়েছেন এক লাখ টাকা। এ নিয়ে জানাজানি হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) ওই কর্মকর্তা ভুক্তভোগীর হাতে এক লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন।
এমন ঘটনাটি ঘটিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইন।
এ ঘটনায় ইমরানের নিজস্ব দালাল হিসেবে পরিচিত মো. রিদুয়ানকে গতকাল সন্ধ্যায় পুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয়েছে। আটক দালাল নিজেকে সাংবাদিক, ক্যাব সদস্য এবং ক্ষমতাসীন দলীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতা হিসাবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ান (এডিএম) জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) রামু বাইপাস সড়ক মোড়ের নাহার ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইন নেতৃত্বে একটি দল। এ সময় সহকারী পরিচালক জ্বালানি তেলের পরিমাপ করে সামান্য ত্রুটি রয়েছে বলে ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দেয়। পরে অফিসে যোগাযোগের জন্য বলা হয়।
ফিলিং স্টেশনটির ম্যানেজার আবদুল্লাহ যথারীতি অফিসে যোগাযোগ করলে তাকে জরিমানা হিসাবে ৪ লাখ টাকা দিতে বলেন। পরে এক লাখ ২০ হাজার টাকায় রফাদফা হয়। এরপর যথারীতি এক লাখ ২০ হাজার টাকা তার হাতে তুলে দিলে রশিদ দেওয়া হয় কেবল ২০ হাজার টাকার। ম্যানেজার আবদুল্লাহ জানান, ‘পরদিন বুধবার পুনরায় ফিলিং ষ্টেশন ম্যানেজার যোগাযোগ করে সহকারী পরিচালক ও দালাল রিদুয়ানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে কল রেকর্ড করি। পরে বিষয়টি অবহিত করি কক্সবাজার জেলা প্রশাসনকে। ’
এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. আবু সুফিয়ান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অভিযোগকারী, দালাল এবং মো. ইমরান হোসাইন এর উপস্থিতিতে অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় দালাল রিদুয়ানকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। ’
তিনি জানান, ‘জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে লিখিতভাবে জানানো হচ্ছে। ‘
এ ব্যাপারে ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালকের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয় কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি ক্ষুধে বার্তা দিলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।




















