রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের রংপুরের তারাগঞ্জের ইকরচালি হাজীপাড়া খারুভাজ ব্রিজ এলাকা এখন ডেডস্পটে পরিণত হয়েছে। মাত্র ৭ দিনের ব্যবধানে খারুভাজ ব্রিজ এলাকায় নবজাতকসহ ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের ইকরচালি হাজীপাড়া খারুভাজ ব্রিজ থেকে পশ্চিমে কয়েকগজ দূরে ৩ দিনের নবজাতকসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। নবজাতকের মা-বাবাসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। অসুস্থ শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স-মিনিবাস মুখোমুখি সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নবজাতক ছাড়াও নিহত অন্য দুজন হলেন- নীলফামারীর সদর উপজেলার কুমড়ার মোড় এলাকার নাছির উদ্দিনের ছেলে অ্যাম্বুলেন্স চালক আলামিন হোসেন (৩৫) ও ডোমার উপজেলার কুচুচুড়াডাঙ্গী গ্রামের জাহিনুর ইসলামের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪০)।
আহত ছয়জন হলেন- নবজাতকের মা মোসলেমা বেগম (৩০), বাবা রশিদুল ইসলাম (৩৮), দেলোয়ার আক্তার (৩৪), মশিয়ার রহমান (৬০), ওলিমা বেগম (৬৮) ও আসাদুল ইসলাম (২৪)।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত নবজাতকের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটি গ্রামের রশিদুলের স্ত্রী মোসলেমা বেগম ৩ দিন আগে নীলফামারী সদরের একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছেলেসন্তান জন্ম দেয়। নবজাতক ছেলেসন্তান গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়ায় নীলফামারী থেকে চিকিৎসার জন্য গভীর রাতে অ্যাম্বুলেন্সে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় ভোর ৪টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালির খারুভাজ ব্রিজ থেকে পশ্চিমে কয়েক গজ দুরে হাজীপাড়া এলাকায় পৌঁছালে রংপুর থেকে পঞ্চগড়গামী ভাই ভাই ক্ল্যাসিক পরিবহণের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে নবজাতকসহ ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
খবর পেয়ে তারাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে তারাগঞ্জ থানার পুলিশ অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রীদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ৩ দিনের নবজাতকসহ ৩ জনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
এর আগে রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারাগঞ্জের খারুভাজ সেতুর কাছে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে ৫ ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ জন মারা যায়।
এলাকাবাসী বলছেন, তারাগঞ্জের ইকরচালি হাজীপাড়া খারুভাজ ব্রিজ এলাকা এখন ডেডস্পটে পরিণত হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জনের প্রাণ গেল। এই সেতু এলাকায় চালকেরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান। এ কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে তা না হলে আরও দুর্ঘটনা ঘটতে থাকবে।
তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ মাহাবুব মোরশেদ বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত নবজাতকসহ ৩ জনের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত দুটি গাড়ি হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে একই এলাকায় দুইটি বড় দুর্ঘটনা ঘটে গেল। বিষয়টি উদ্বেগজনক। এসব ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















