মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করাতে নিরাপত্তাহীনতার কারণে আত্মগোপনে বিএলডিপির প্রার্থী

যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইফুজ্জামান পিকুল বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। তাকে চ্যালেঞ্জ করে প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (বিএলডিপি) প্রার্থী মারুফ হোসেন কাজল।

গুঞ্জন ছিল তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মারুফ হোসেন কাজল। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করাতে নানামুখী চাপ প্রয়োগ ও হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতার কারণে আত্মগোপনে রয়েছেন মারুফ হোসেন কাজল।

বিএলডিপির একাধিক নেতা জানান, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। তার বিপরীতে একজন ক্লিন ইমেজের মানুষ দাঁড়ালেই পাশ করে যাবেন। তেমনি ক্লিন ইমেজ নেতা মারুফ হোসেন কাজলকে দলীয় মনোনয়ন দেয় বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে মারুফ হোসেনের মনোনয়ন প্রত্যাহার করাতে নানামুখী চাপপ্রয়োগ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তাহীনতা এমন পর্যায়ে যে- তিনি মনোনয়ন ফরম জমার দিন সকাল ৮টায় জমা দেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। এমনকি তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইফুজ্জামান পিকুল সাংবাদিকদের বলেন, উনাকে হুমকি দেওয়ার কোনো প্রশ্নেই উঠে না। উনি এক সময় ডেসটিনি করতেন; উনার কাছে অনেক লোক টাকা পাবেন, তাই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। আমার কোনো লোক তাকে যদি ভয়ভীতির হুমকি দেয়; তাহলে তিনি প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জানান।

এদিকে মোবাইল বন্ধ থাকায় বিএলডিপি প্রার্থী মারুফ হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার আনিচুর রহমান বলেন, বিএলডিপি প্রার্থী মারুফ হোসেনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে নির্বাচনী বিধি মোতাবেক আমরা ব্যবস্থা নিব।

জানা গেছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাইফুজ্জামান পিকুল ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (বিএলডিপি) প্রার্থী মারুফ হাসান কাজলসহ ৫৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইকালে ৫২ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। রোববার প্রত্যাহারের শেষ দিনে সাধারণ সদস্য পদে ৪ প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় ভোটের লড়াই হবে চেয়ারম্যান পদে ২ জনসহ ৪৮ প্রার্থীর।

চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিপরীতে শক্তিশালী কোনো দল বা প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় ভোটের আসল লড়াই দেখছেন সদস্য পদে। রোববার চেয়ারম্যান পদে কেউ প্রত্যাহার না করলেও সদস্য পদে এদিন ৪ প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

ভোটার তালিকা অনুযায়ী এক হাজার ৩১৯ জনপ্রতিনিধি জেলা পরিষদ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ এক হাজার সাতজন ও নারী ভোটার ৩১২ জন। আগামী ১৭ অক্টোবর যশোর জেলা পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে ইভিএম।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধআখক্ষেতে নিয়ে ২ গার্মেন্টকর্মীকে ধর্ষণ 
পরবর্তী নিবন্ধদাখিল পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে ছোটবোন আটক

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে