আর্ন্তজাতিক পর্যটন মেলা এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (এটিএফ) ঢাকায় ২৯ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে। চলবে ১ অক্টোবর পর্যন্ত। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার ঢাকার প্যান প্যানসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে পর্যটন শিল্পের পুনরুদ্ধারের জন্য এশিয়ান টুরিজম ফেয়ারের আয়োজন অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণে উৎসাহিত করবে। এছাড়া, দেশি-বিদেশি পর্যটন সংস্থা মেলায় অংশগ্রহণের ফলে আর্ন্তজাতিকভাবে পর্যটন শিল্পের দারুণ প্রচার-প্রচারণার সুযোগ বাড়বে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্য পর্যটন এখন একটি অন্যতম শিল্প হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ শিল্পের উন্নয়নের বিভিন্ন সময়ে নানা পরামর্শ দিচ্ছেন এবং নানা ধরণের প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্দেশনা দিচ্ছেন।
বর্তমান সরকার পর্যটন বান্ধব সরকার। আশা করা যায়, সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আগামী কয়েক বছরেই এদেশের পর্যটন শিল্প কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে। তিনি এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের সর্বাত্মক সফলতা কামনা করে এবং সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে যথাযথ ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যেমে প্রচার-প্রচারনার এই সুযোগকে কাজে লাগানোর নির্দেশনা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার আয়োজনের বিস্তারিত তুলে ধরেন পর্যটন বিচিত্রার সম্পাদক এবং এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মাহিউদ্দিন হেলাল।
তিনি জানান, বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় পর্যটন বিচিত্রার আয়োজনে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায়, বাংলাদেশ পর্যটন করর্পোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এর সহযোগিতায় ৩ দিন ব্যাপী , ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে এই মেলা। মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ০৭:০০ টা পর্যন্ত।
আসন্ন ৯ম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারে ৮টি দেশ অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সহ নেপাল, থাইল্যান্ড, ভারত, ভূটান, মালোশিয়া, শ্রীলংঙ্কা ও লিথুনিয়ার প্রায় ১৩০টি বিভিন্ন পর্যটন সংস্থা অংশগ্রহণ করবে। যার মধ্যে ৫০টির অধিক বিদেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মেলায় থাকবে আসন্ন পর্যটন মৌসুমে দেশ ও বিদেশে বেড়ানোর বিভিন্ন আকর্ষনীয় ভ্রমণ অফার, হোটেল, রিসোর্ট বা প্যাকেজ বুকিং সহ বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা। মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, ক্রুজলাইন্স, এয়ারলাইন্স, ট্যুর অপারেটর ও থিমপার্কসহ বিনোদনের আরো অনেক প্রতিষ্ঠান।
এছাড়া মেলায় বৈচিত্র্যময় আয়োজনে থাকবে পর্যটন বিষয়ক সেমিনার, শিশুদের জন্য চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, বিজনেস টু বিজনেস মিটিং। মেলার থাকবে শ্রীলংকা ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই মেলার মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের একটি পুর্ণাঙ্গ চিত্র দর্শনার্থীদের মাঝে তুলে ধরার প্রচেষ্টা থাকবে।
মেলায় এয়ারলাইন্স পার্টনার হিসাবে রয়েছে – বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে রয়েছে-ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাওঁ, এ্যাডভেঞ্চার ডাইনিং পার্টনার- ফ্লাই ডাইনিং, ক্রুজ পার্টনার – ঢাকা ডিনার ক্রুজ, এন্টারটেইনমেন্ট পার্টনার – ফ্যান্টাসি কিংডম ও ট্রান্সপোর্ট পার্টনার – কনভয় সার্ভিস।
৯ম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের প্রাইম পার্টনার কান্ট্রি – নেপাল, পার্টনার কান্ট্রি- থাইল্যান্ড, ফিচার কান্ট্রি- ভারত, মলোশিয়া, শ্রীলংকা, লিথুনিয়া এবং মেলার হোস্ট কান্ট্রি- বাংলাদেশ।
মেলার প্রবেশ মূল্য ৩০ টাকা, প্রবেশ কসপণের বিপরীতে র্যাফেল ড্র বিজয়ীদের জন্য থাকবে এয়ারলাইন্স টিকিটসহ বেড়ানো আকর্ষনীয় গিফট ভাউচার। এছাড়া প্রতিটি টিকিটেই থাকবে মেলার এন্টারটেইনমেন্ট পার্টনার- ফ্যান্টাসি কিংডমে প্রবেশে ৫০% ডিসকাউন্ট।
সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোঃ মোকাম্মেল হোসেন বলেন, এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার বাংলাদেশের একটি আর্ন্তজাতিক ও অন্যতম পর্যটন মেলা। এই মেলার মাধ্যমে পর্যটন সংস্থাগুলোও প্রচার-প্রচারণা এক বিশেষ সুযোগ পাবে। এই মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের এক নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে এবং আসন্ন পর্যটন মৌসমে পর্যটকেদের বেড়ানোর খোজ খবর পেতে এই মেলাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি আরো বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সরকারের পর্যটন উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সকল নীতিমালা এবং কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আশা করা যায়, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প কোভিড পরবর্তী সময়ে আরো জোরালোভাবে ঘুরে দাঁড়াবে এবং টেকসই উন্নয়নে সহায়তা করবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ আলি কদর, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আবু তাহের মোঃ জাবের, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোঃ আতিকুর রহমান, ঢাকাস্থ নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চীপ অফ মিশন মি. কুমার রায়। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিজম রিসোর্ট ইন্ডাস্টি এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ট্রিয়াব) এর সভাপতি, জনাব খবিরউদ্দিন আহম্মেদ, ট্যুরিজম ডেভেলপার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান জনাব হাবিব আলী ও বিডি ইনবাউন্ডের প্রেসিডেন্ট জনাব রেজাউল ইকরাম সহ পর্যটন শিল্পের অন্যান্য নেতারা।




















