শ্রীপুরে যুবককে হত্যার প্রতিবাদে লাশ নিয়ে মানববন্ধন এলাকাবাসীর

গাজীপুরের শ্রীপুরে চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে রানা নামের এক যুবককে হত্যার প্রতিবাদে লাশ নিয়ে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। এ ঘটনায় নিহত রানার বাবা বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

রোববার ময়নাতদন্তের পর লাশ বাড়িতে নিয়ে গেলে এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। এ সময় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

রাত পৌনে ৮টায় উপজেলার মাওনা ধনুয়া সড়কে রানার লাশ সামনে নিয়ে মানববন্ধন করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এলাকার কয়েক হাজার মানুষ ফেস্টুন ও ব্যানার হাতে নিয়ে এ মানববন্ধনে অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া রানার বাবা আমিরুল ইসলাম বলেন, শিপন ও তার লোকজন নৃশংসভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, রানাকে উদ্ধারের জন্য আমরা গেলে রানার মা ও আমার ওপরও আক্রমণ করে তারা।

রানার মা তার ছেলে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইব্রাহিম আলম বলেন, রানাকে নির্দয়ভাবে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করেছে। রানার গোপনাঙ্গ দিয়ে লোহার তার ঢুকিয়ে দেয়। এ সময় রানার মুখে গামছা ঢুকিয়ে দেয়।

একই গ্রামের বাসিন্দা লোকমান হেকিম বলেন, মানুষকে খুন করার অনেক ঘটনা জানি-শুনি, কিন্তু রানাকে যেভাবে মারা হলো সত্যি-সত্যিই এটা খুবই লোমহর্ষক ঘটনা। 

একই গ্রামের বাসিন্দা মাওনা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম রিপন বলেন, আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সব আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি। প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর জোর দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন তাদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করে।

এ ঘটনায় নিহত রানার বাবা আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৬ জনকে অভিযুক্ত করে শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্তরা হলেন- শিপন (২৭), আকাশ (২৫), উজ্জ্বল (৪৫), শওকত (৩০), ইমন (৩০) ও মোশাররফ (৫০)। তাদের সবার বাড়ি একই এলাকায়।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে কাজ করছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, শনিবার ভোরে  চুরির  অপবাদ দিয়ে আটকে রেখে রানাকে মারধর করার পর স্বজনরা স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত যুবক রানা মিয়া (৩০) উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি কারখানায় চাকরি করতেন।

জানা গেছে, অভিযুক্ত শিপন মাওনা বাজারে ভাঙ্গারি ব্যবসা করেন। ওই ব্যবসার কাজে ব্যবহার করা হতো ১৫টি ভ্যানগাড়ি। সম্প্রতি শিপনের পাঁচটি ভ্যানগাড়ি চুরি হয়। শনিবার ভোর ৩টার দিকে রানাকে চুরির অভিযোগ এনে আটক করেন শিপন। আটকের পর রানাকে বেদম মারধর করেন শিপনসহ অভিযুক্তরা।

খবর পেয়ে রানার বাবা-মা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় রানাকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় তার মৃত্যু হয়। পরে স্বজনরা বিচারের দাবিতে লাশ নিয়ে শ্রীপুর থানায়  যান।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধসৌদিতে গিয়েই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে নিহত কামাল, কচুয়ায় শোকের মাতম
পরবর্তী নিবন্ধনৌকাডুবির ঘটনায় মাত্র ৫ মিনিটের ব্যবধানে আনন্দযাত্রায় নেমে এলো বিষাদের ছায়া

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে