পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় তৃতীয় দিনে আরও ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ জনে। করতোয়া তীরে এখনো স্বজনরা বুকে শোকের পাথর চেপে উদ্ভ্রান্তের মতো প্রিয়জনের মরদেহের সন্ধানে অপেক্ষা করছেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিনাজপুরের খানসামা ও বীরগঞ্জ এবং পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ও বোদার বিভিন্ন নদী থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের জরুরি তথ্য কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৬৮ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে কতজন যাত্রী ছিল, তার সঠিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এখনো চারজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে স্বজনদের সূত্রে।
নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ করছে পঞ্চগড়সহ আশপাশের জেলার ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট। এছাড়াও রংপুর, কুড়িগ্রাম ও রাজশাহী থেকে আসা তিনটি দলের ৯ জন ডুবুরি উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছেন। আলো থাকা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দীপঙ্কর রায়। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৬৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৭ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়া ঘাট এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের করতোয়া নদীর অপরপাড়ে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পূজা উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারো ধর্মীয় প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। রোববার দুপুরের দিকে মূলত: ওই প্রার্থনায় যোগ দিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নৌকা যোগে নদী পার হচ্ছিলেন। তবে ৫০ থেকে ৬০ জনের ধারণক্ষমতার নৌকাটিতে দেড় শতাধিক যাত্রী ছিল। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে নদীর মাঝপথে নৌকাটি ডুবে যায়। কয়েকজন সাঁতরে তীরে আসতে পারলেও অধিকাংশই পানিতে ডুবে যায়।
নিহতদের মধ্যে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ৪৪ জন, দেবীগঞ্জের ১৮ জন, আটোয়ারীর ২ জন, ঠাকুরগাঁওয়ের ৩ জন ও পঞ্চগড় সদরের একজন রয়েছেন। মৃত ৬৮ জনের মধ্যে নারী ৩০ জন এবং পুরুষ ১৭ জন। বাকি ২১ জন শিশু।




















