সাতক্ষীরার আশাশুনিতে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে। শনিবার ভোররাতে উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের নসিমাবাদ গ্রামে এমন ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিকাল ৫টার দিকে নিহত আসমা খাতুনের শাশুড়ি সালমা বেগমকে (৪৬) আটক করেছে পুলিশ।
নিহত গৃহবধূ আসমা খাতুন (২২) নসিমাবাদ গ্রামের আরিফুল সানার স্ত্রী ও শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের খেজুরাটি গ্রামের আব্দুস সাত্তার সরদারের মেয়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা হজরত আলীসহ স্থানীয়রা জানান, গৃহবধূকে হত্যার পর বাড়ির বারান্দার গ্রিলে মরদেহ ঝুঁলিয়ে দিয়ে বাড়ির সবাই পালিয়েছেন। প্রথমে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার আগেই সবাই পালিয়ে গেছে।
নিহতের ভাই আরাফাত হোসেন জানান, চার বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ২-৩ লাখ টাকার আসবাবপত্র দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছু দিন না যেতেই বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাবি জানিয়ে বোনকে মারপিট শুরু করে। এরপর সাতক্ষীরা আদালতে একটি নারী নির্যাতন মামলাও করেছিলাম। পরবর্তীতে আদালত থেকে মুচলেকা দিয়ে বোনকে বাড়িতে নিয়ে যায় আরিফুল। সবশেষ এসে মোটরসাইকেল দাবি করেছিল। আমরা অভাবী হওয়ায় দিতে দেরি হয়েছে। মোটরসাইকেল না দেওয়ার কারণে বোনকে হত্যা করেছে তারা।
আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমিনুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আসমা খাতুনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের পরিবার বাদী হয়ে শ্বশুরবাড়ির ৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার অভিযোগ দিয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী আরিফুল সানাসহ পরিবারের সবাই পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।




















