মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ৭ উইকেটে জিতেছে ইমরুল কায়েসের দল। ১৪৯ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলেছে ৪৩ বল বাকি থাকতে।
১৬ বলে ছয় ছক্কা ও পাঁচ চারে ৫৭ রানের খুনে ইনিংসে চট্টগ্রামকে লড়াইও করতে দেননি নারাইন। তার ৫৬ রানই আসে বাউন্ডারি থেকে।
নারাইনের দেখানো পথ ধরেই যেন ঝড় তোলেন মইন আলি। বাঁহাতি এই ইংলিশ অলরাউন্ডার ১৩ বলে করেন ৩০ রান। এর আগে বোলিংয়ে ২০ রানে নেন ৩ উইকেট। প্রথম ২ ওভারে স্রেফ ৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেওয়ার পর শেষ ওভারে তিনি ১৬ রান দিয়ে বসেন। তাতে বোলিং ফিগারটা হয়ে যায় একটু ‘খরুচে’ ৩-১-২০-৩।
ব্যাটিংয়ে ভালো করা মেহেদী হাসান মিরাজের পরের অংশ একদমই ভালো কাটেনি। বোলিংয়ে এক ওভারেই দেন ২৩ রান। পরে ছাড়েন একটি ক্যাচ। কুমিল্লার ব্যাটসম্যানদের তাণ্ডবের মধ্যেও নাসুম ৪ ওভারে দেন কেবল ৩০ রান।
শেষটা ভীষণ বিবর্ণ হলেও টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে আলো ঝলমলে শুরু পেয়েছিল চট্টগ্রাম। নাহিদুল ইসলামের জায়গায় একাদশে আসা আবু হায়দারের প্রথম বলটি ছিল খুবই বাজে। লেগ স্টাম্পের বাইরে হাফ ভলি অনায়াসে বাউন্ডারিতে পাঠান অসুস্থতা কাটিয়ে এক ম্যাচ পর দলে ফেরা উইল জ্যাকস। আগের ম্যাচে গোল্ডেন ডাক পাওয়া জাকিরও শুরু করেন চার দিয়ে।
তৃতীয় ওভারে নারাইনকে চার মেরে স্বাগত জানান জ্যাকস। পরে মারেন ছক্কা। তবে পূর্বাভাসেই তার ঝড় থামিয়ে দেন শহিদুল ইসলাম। লেংথ বল লেগে ঘুরানোর চেষ্টায় ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে কাভারে ধরা পড়েন ইংলিশ ওপেনার।
বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলামকে সুইপ করে বাউন্ডারি মারেন জাকির। সেই ওভারেই আগের ম্যাচের নায়ক চাডউইক ওয়ালটনকে এলবিডব্লিউ করে দেন তানভির।
দুই ওপেনারের মতো অধিনায়ক আফিফ হোসেনও রানের খাতা খোলেন মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলে চার মেরে। লেগ স্টাম্পের বল চমৎকারভাবে গাইড করে ফাইন লেগ দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠান তিনি।
পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে ৬ জন ভিন্ন বোলারকে আনেন ইমরুল কায়েস। শেষ ওভারটি করতে এসে বড় সাফল্য পান মইন। পরপর দুই বলে বিদায় করেন জাকির ও শামীম হোসেনকে। পিছিয়ে গিয়ে লেগ দিয়ে তুলে মারার চেষ্টায় মিড অনে ধরা পড়েন বাঁ হাতি ওপেনার। প্রথম বলেই বেরিয়ে এসে চড়াও হওয়ার চেষ্টায় স্টাম্পড হন শামীম।
মইনের হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দেওয়া মিরাজ টানেন দলকে। মইনের পরের ওভারে আফিফের চমৎকার ক্যাচ নেন তানভির। আগের চার ইনিংসে তেমন কিছু করতে না পারা আকবর তাকে দেন সঙ্গ।
প্রথম ৫ বল ডট খেলার পর সিঙ্গেল নিয়ে রানের খাতা খোলেন মিরাজ। পরে টানা দুই ওভারে তানভির ও শহিদুলকে চার মেরে শুরু করেন লড়াই। মইনকে স্লগ সুইপ করে ছক্কায় ডানা মেলেন আকবর। দুটি ডাবলসের পর মারেন চার।
তানভিরকে স্লগ সুইপে ছক্কায় ওড়ান মিরাজ। সেই ওভারেই কাভারের ওপর দিয়ে আকবরের ছক্কায় ৩০ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করে জুটির রান। আবু হায়দারকে চার মারার পর ছক্কায় ওড়ানোর চেষ্টায় আকাশে তুলে দেন আকবর। নিজেই বল মুঠোয় জমান বোলার।
দুই ওভার পর স্ট্রাইক পেয়ে আফিফকে চারের পর ছক্কা মারেন নারাইন। ১১ বলে তার রান হয়ে যায় ৪৬। সম্ভাবনা জাগে টি-টোয়েন্টিতে ১২ বলে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড স্পর্শ করার। কিন্তু পরের বলে নিতে পারেন কেবল এক রান।
মৃত্যুঞ্জয়কে ছক্কায় উড়িয়ে ১৩ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে এই আসর তো বটেই, বিপিএলের ইতিহাসেই দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েন নারাইন। সেই প্রথম আসরে ১৬ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে এতদিন রেকর্ডটি ছিল বরিশাল বার্নার্সের পাকিস্তানী ওপেনার আহমেদ শেহজাদের।




















