ইলিশের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের প্রথম দিনে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে কোনো জেলে নৌকা দেখা যায়নি। শুক্রবার সকাল থেকে ভোলার বিভিন্ন মাছঘাটগুলোতে সুনসান নীরবতা। মাছের আড়ৎগুলোও ছিল বন্ধ। এক দিন আগেও জেলে ও পাইকাদের হাকডাকে মুখরিত ছিল।
শুক্রবার সকাল থেকে ভোলার মেঘনা নদীর নাছির মাঝি, ভোলার খাল, কোড়ারহাট, স্লুইসগেট, তুলাতুলি, ইলিশা মাছ ঘাটসহ বিভিন্ন মাছঘাট ঘুরে দেখা গেছে, নদীতে কোনো জেলে নৌকা নেই। জেলেরা ঘাটে বসে জাল ও নৌকা মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার কেউ ঘাটে অলস সময় পার করছেন।
এ সময় মো. ইসমাইল, নোমান লিটন মাঝি, নাসিম মাঝিসহ ১০-১৫ জন জেলে জানান, সরকার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় তারা মাছ ধরার ট্রলার থেকে জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম তীরে তুলে রেখেছেন। এখন নষ্ট জাল মেরামত করে তাদের দিন কাটে। সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে তারা নদীতে যাওয়া থেকে বিরত রয়েছেন। কিন্তু তাদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভিজিএফ চাল সঠিকভাবে পাওয়া নিয়ে তারা শঙ্কা প্রকাশ করেন। এছাড়াও এ ২২ দিন সংসারের খরচ ও মানুষের ধারদেনা নিয়েও চিন্তিত তারা।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভোলায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযান বাস্তবায়নে প্রতিটি উপজেলায় পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে ৩-৪টি করে টিম নদীতে কাজ করছে। এছাড়াও প্রতিটি উপজেলার মাছঘাটগুলোতে তদারকির জন্য আলাদা ৭টি টিম গঠন করা হয়েছে। যাতে করে কোনো জেলে নৌকা বা ট্রলার নদীতে মাছ শিকারে যেতে না পারে।
মৎস্য কার্যালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ভোলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা এক লাখ ৫৭ হাজার। এর মধ্যে এক লাখ ৩২ হাজার জেলের জন্য ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়ে ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জেলেদের কাছে বরাদ্দকৃত চাল পৌঁছানো হবে।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্যাহ জানান, মা মাছ রক্ষা অভিযানের প্রথম দিনে ভোলায় কোনো জেলে আটক হয়নি। নদীও ছিল জেলেশূন্য। এ অভিযান শতভাগ বাস্তবায়নে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাকালে জেলেদের কাছ থেকে এনজিও ও ব্যাংকের ঋণের কিস্তি না নেওয়া হয় সে জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এনজিও এবং ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ অভিযান সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে মাছের উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় শুক্রবার ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাকালীন নদীতে কোনো ধরনের মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও পরিবহণ আইনত দণ্ডনীয়। এ আইন অমান্যকারীকে কমপক্ষে ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।




















