কোনো বিদেশি শব্দের জটিল বাংলা পরিভাষা ব্যবহারের বদলে সহজ ও বহুল প্রচলিত বিদেশি শব্দ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।‘খটমট’ বা জটিল ভাষা ব্যবহার করলে মানুষ বুঝবে না, এজন্য সংশ্লিষ্টদের তা পরিহারের পরামর্শ দিয়েছেন সরকারপ্রধান।
সোমবার বিকালে ‘মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২২’ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট আয়োজিত চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
বিদেশি পরিভাষা সহজ করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি খটমট ভাষা ব্যবহার করি, মানুষ বুঝতে পারবে না। যেমন আজকের প্রবন্ধে কন্টেন্টের পরিভাষায় বলা আছে আধেয়। আধেয় বললে কিন্তু কেউ বুঝতে পারবে না। কন্টেন্ট বললে সবাই সহজভাবে বুঝবে।’
বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ইন্টারনেটে বাংলা ভাষায় কনটেন্ট তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, কম্পিউটার বা ইন্টারনেটে বাংলায় কনটেন্ট তৈরি করা বা বাংলা ভাষাকে আরও সহজ করে দেয়া যায় কিনা তা ভাবা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই বাংলা কিবোর্ড এসেছে, তবে সেগুলোকে আরও সহজ করে দেয়া.. বিশেষ করে আমাদের যুক্তাক্ষরগুলো এতো খটমট! এগুলোকে সহজ করার ব্যাপারে আজকেও আমি আমাদের মন্ত্রীদের সাথে কথা বলেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে শব্দগুলো বহুল এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত সেগুলো যে ভাষায় আসুক, যে ভাষায় সবথেকে অধিক ব্যবহারিত। আমাদের সেটাই গ্রহণ করতে হবে। পরিভাষা ব্যবহার করতে গিয়ে, শেষে কোনো কিছুই বুঝবো না, বলতে পারবো না। সেটা যেন না হয়। কারণ সব জায়গায় প্রতিশব্দ বা পরিভাষা করতে হবে, সেটা আমিও বিশ্বাস করি না।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কারণ বিজ্ঞান যেভাবে বিস্তার লাভ করছে, সেখানে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষায় আছে। ইংরেজি, ফ্রেঞ্চসহ অনেক দেশের অনেক ভাষায় আছে, এর ভেতরে যুক্ত হয়ে গেছে। আট হাজারের বেশি শব্দ আমাদের বাংলা ভাষার সঙ্গে মিলে গেছে। তাই ওই ব্যাপারে আমরা খুব বেশি রক্ষণশীল না হয়ে, প্রচলিত শব্দ, বিজ্ঞানের টার্মগুলো দিয়ে বাংলা ভাষায় সহজভাবে বিজ্ঞান শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।’
একসময় দেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান পড়ায় আগ্রহ ছিল না বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। প্রতিটি বিষয়ে গবেষণা দরকার জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প ও বিজ্ঞানের অন্যান্য সব বিষয়ে গবেষণা দরকার।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছি। আমরা বাঙালি জাতি। আর এই ভাষা আন্দোলন থেকে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। স্বাধীন জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই। আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা সমান তালে এগিয়ে যেতে চাই।’
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে বক্তৃতা করেন ইউনেস্কোর এদেশীয় প্রতিনিধি এবং হেড অব অফিস বিয়েট্রেস কালডুন।




















